কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়

কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয় তা আমাদের সবার জান দরকার। ঘুম আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। আমাদের শরীর সুস্থ সবল থাকতে ঘুমের কোনো বিকল্প নাই।  আমাদের বয়স অনুযায়ী অবশ্যই পরিমানমত ঘুম যেতে হবে। ঘুম যদি কম হয় তাহলে আমাদের শরীর অসুস্থ  হয়ে যাবে। শরীরকে সবসময় সুস্থ রাখতে পরিমানমত ঘুম যেতে হবে। ঘুমের সময় আমাদের শরীর অনেক গুরুতর কাজ হয়। এই সময় শরীর চেষ্টা করে নিজেকে সারিয়ে তুলতে। শুধু শারীরকভাবে নয়, এমনকী মানসিকভাবেও ঘুমের সময় মস্তিষ্ক বিভিন্ন জরুরি কাজ করতে থাকে। তাই ঘুম না হলে পরের দিন কাজ করতে ইচ্ছে করে না। কাজে বহু সমস্যা তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু অনেকেরই আছে ভালো করে ঘুম কম হয় । এটি মূলত একটি ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয় । চলুন দেখে নেয়া যাক কি কারণে কিসের অভাবে ঘুম কম হয় ?

 

কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়

 ঘুম খুব পাতলা? রাতে বার বার ঘুম ভেঙে যায়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতভর যদি বার বার ঘুম ভাঙে তাহলে সেটা ভাল লক্ষণ নয়।এটি ভিটামিনের অভাবে হয়ে থাকে।  কম ঘুম বা অনিদ্রার সমস্যা থাকলে তার থেকেই শরীরে বাসা বাঁধতে পারে নানা রোগ। এখনকার বেশিরভাগ মানুষজনই কম ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। রাতে শোয়ার পরেও ঘুম আসে না , শরীরে অস্বস্তি, বার বার ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা কম বেশি এখন সবার রয়েছেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত স্ট্রেস যেমন এর কারণ হতে পারে, তেমনই আরও একটা বড় কারণ হল ভিটামিনের ঘাটতি। ভিটামিনের ঘাটতির কারণে ঘুম কম হয়। 

 

শরীরকে ঠিক রাখতে ভিটামিন (Vitamin) ও মিনারেলসের গুরুত্ব অনেক । অনেকেই জানেন না, কিছু ভিটামিনের ঘাটতি হলে কম ঘুমের মত সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। কম ঘুমোলে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা দেখা দেয়— যেমন ডায়াবেটিস, হৃদযন্ত্রজনিত সমস্যা, ডিমেনশিয়া। নিয়মিত কম ঘুম হলে, তাতে মানসিক সমস্যাও হতে পারে। অবসাদ, অবসন্নতা ছাড়াও বাইপোলার ডিজঅর্ডারের প্রবণতাও বেড়ে যেতে পারে।

 

  • ভিটামিন ডি কম থাকলে ঘুম কম হয় (Vitamin D)

 

ঘুম কম হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হল শরীরে ভিটামিন ডি কম থাকা। ভিটামিন ডি শরীরকে রেস্ট নিতে সাহায্য করে। এই ভিটামিনটি শরীরে পর্যাপ্ত পরিমানে থাকলে আমাদের ঘুম খুব ভালো হয়। এই ভিটামিনের অভাব হলে শরীরে অনেক গুরুতর অসুখ সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে ঘুমও হয় না অনেকের। এই পরিস্থিতিতে ঠিকমতো ঘুমাতে গেলে ভিটামিন ডি খান।  ভিটামিন ডি বেশি পাওয়া যায় মাছ, ডিম, দুধে। এছাড়া ভিটামিন ডি এর উৎস রয়েছে আমাদের হাতের কাছেই।

 

  • ভিটামিন বি৬ (Vitamin B6)

 

ঘুম কম হওয়ার অন্যতম আরেকটি কারণ হলো ভিটামিন বি৬।  ভিটামিন বি৬ হল খুবই জরুরি এক ভিটামিন। এই ভিটামিন শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকা উচিত। ভিটামিন বি৬ শরীরে পর্যাপ্ত পরিমানে না থাকলে  শরীরে মেলাটোনিন ও সেরোটোনিন কম বের হয়। এই দুই হরমোন ভালো পরিমাণে থাকলে ঘুম ঠিকমতো হয়। অন্যথায় যদি কম থাকে তাহলে সমস্যা তৈরি হয়ে যায়। এবার এই ভিটামিন বি৬ পেতে গেলে দুধ, মাছ,মাংস  ইত্যাদি খেতে হবে।

ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার কি কি?

 

যাদের ঘুম কম হয় তাদের মনে একটাই প্রশ্ন কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়? ভিটামিন ডি এর অভাবে ঘুম কম হয়। কি খেলে ভিটামিন ডি এর ঘাটতি পূরণ হয়।  

 

  • ভিটামিন ডি এর প্রধান উৎস হলো মাছ।  সব মাছে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি। ভিটামিন ডি এর ঘাটতি পূরণ করতে  প্রত্যেকদিন মাছ খাবেন। 
  • ​ডিমের কুসুমে থাকে ভিটামিন ডি। ঘাটতি মেটাবে ডিমের কুসুম খাবেন। 
  • মাশরুম খেতে পারেন​ ।
  • ​গরুর দুধে প্রচুর ভিটামিন ডি থাকে ,তাই ঘাটতি পূরণে গরুর দুধ মাস্ট​ খাবেন। 

কি কি খেলে ভিটামিন B 6 এর ঘাটতি পূরণ হয় ?

 

কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়? ভিটামিন ডি  এবং ভিটামিন বি৬ এর অভাবে খুম কম হয়। কি খেলে ভিটামিন বি৬ এর ঘাটতি পূরণ হয়। 

 

  • মাছ, চিকেনে থাকে ভিটামিন বি৬। তাই মাছ এবং চিকেন খেলে ভিটামিন বি৬ এর ঘাটতি পূরণ হতে পারে। 
  • ডিম খেলে ভিটামিন বি৬ অভাব পূরণ হয়। 
  • ব্রাউন রাইস, ব্রাউন ব্রেড, ওটমিল খেলে ভিটামিন বি৬ এর ঘাটতি পূরণ হবে। 
  • সোয়াবিন, পিনাট,আলু ভিটামিন বি৬ অভাব পূরণ করে। 
  • ডায়েটে সিজিনাল শাকসব্জী খান। 

 

ভিটামিন ডি এর অভাবের লক্ষণ কি?

 

ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে যাওয়া , শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাবের কারণে আপনি প্রায়ই অসুস্থ হতে পারেন। ভিটামিন ডি এর অভাবে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে  কমতে শুরু করে, যার কারণে ঠান্ডা, সর্দি, জ্বর, কাশি এবং  বিভিন্ন  ধরণের সংক্রমণের ঝুঁকিও অনেকগুণ বেড়ে যায়। হাড় ও স্নায়ুতে ব্যথা, ভিটামিন ডি-এর অভাবে হাড়, জয়েন্ট, পিঠ ও স্নায়ুতেও ব্যথা সহ নানান জায়গায় ব্যথা  হতে পারে।

 

আরো পড়ুনঃ স্কেলিং এর খরচ কত

 

ভিটামিন বি৬ অভাবের লক্ষণ কি ?

 

শরীরে ভিটামিন বি৬ কমে গেলে শরীরে কিছু লক্ষণ  দেখা যায়। ভিটামিন বি৬ এর অভাব হলে শরীরে লোহিত রক্তকণিকা কমে যায়। এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে শরীরে  অ্যানিমিয়া হয়। কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয় ?ভিটামিন বি৬ এর অভাবে ঘুম কম হয়। ভিটামিন বি ৬-এর অভাবে ত্বকের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চামড়ার বিভিন্ন জায়গায় লালচে দাগ হয়ে যায়।এই ভিটামিনের  অভাব হলে পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস, গ্লসাইটিস এবং চেইলোসিস মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।  অনেক সময় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং খিঁচুনি হতে পারে।

 

রোদে কতটুকু ভিটামিন ডি পাওয়া যায়?

 

কম বেশি সবার একটি ধারণা রোদ থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। ঘুম কম হওয়া নিয়ে সবার একটাই প্রশ্ন কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়? ভিটামিন ডি  এবং ভিটামিন বি৬ এর অভাবে খুম কম হয়। এই নিয়ে  বিশেষজ্ঞ সংস্থা এবং ভিটামিন ডি গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন, উদাহরণস্বরূপ, প্রায় 5-30 মিনিট সূর্যের এক্সপোজার, বিশেষ করে সকাল 10 টা থেকে বিকাল 4 টার মধ্যে, হয় প্রতিদিন বা সপ্তাহে অন্তত দুবার মুখ, বাহু, হাত এবং পায়ে সানস্ক্রিন ছাড়াই। সাধারণত পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি সংশ্লেষণের দিকে পরিচালিত করে ১৩,১৫,২৮ এর মধ্যে। 

 

ভিটামিন ডি কি শিশুর ঘুমের উপর প্রভাব ফেলে?

 

এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেয় যে শিশুদের ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিমাপ করা ঘুমের সময়কাল হ্রাস এবং কম ঘুমের দক্ষতার সাথে সম্পর্কিত । তবে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেরি করে শোবার সময়গুলির সাথে যুক্ত ছিল, পরামর্শ দেয় যে ভিটামিন ডি এবং সার্কাডিয়ান ছন্দ সম্পর্কিত হতে পারে। শিশুদেরকে এই ভিটামিন ডি এর অভাব যেন না হয় সেজন্য শিশুদেরকে তাড়াতাড়ি শোয়ার অভ্যাস করে তুলতে হবে ,বেশি পরিমানে খুব যেতে হবে। 

 

কি খেলে ঘুম বেশি হবে ?

 

  • মাখানা: এই খাবারটি স্নায়ুকে খুব আরাম দিতে পারে এমন কিছু উপাদান রয়েছে। এক গ্লাস দুধে এক মুঠো মাখানা দিয়ে ফুটিয়ে নিন। তারপর পান  করুন দেখবেন সুফল পাবেন। 
  • আমন্ড: ঘুমোতে যাওয়ার আগে ৪-৬টা আমন্ড বা কাঠবাদাম খাবেন। 
  • কেমোমাইল চা বা জেসমিন চা: এই দু’টি চা ঘুমোতে যাওয়ার আগে খেলে 

নিয়মিত বেশি ঘুম যাওয়ার জন্য বেশি পরিমানে ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বি৬ সমৃদ্ধ খাবার খান। এই খাবার গুলো আপনার কম ঘুম হওয়ার সমস্যাকে দূর করে দিবে। বেশি পরিমানে শাক সবজি খাবেন ,শাক সবজি সব ধরনের ভিটামিনের অভাব পূরণ করে দিবে। 

Leave a Comment