পাকা চুল থেকে মুক্তির উপায়

পাকা চুল থেকে মুক্তির উপায় খুজছে হাজারো তরুণ তরুণী। এই সমস্যা যেন আমাদের দেশের মানুষের রক্তের সাথে মিশে গেছে। একটু বয়স হতে না হতেই আমাদের দেশের মানুষের চুল পড়া ও চুল পাকতে শুরু করে। আসলে অবাক হবারও কিছু নেই, কারণ আমাদের দেশের মানুষের খাদ্যভাস ও আবহাওয়া এমনই। কিন্তু তাই বলে তো আমরা আর হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি নাহ। রোগ যেমন আছে তেমনি তার সমাধানও আছে নিশ্চই। আজকে আমরা জানবো যে কিভাবে  আমরা পাকা চুল থেকে মুক্তির উপায় খুজে বের করতে পারি। 

 

পাকা চুল ফের কাঁচা হবে

অল্প বয়সে চুল পাকার একটা অন্যতম কারন হচ্ছে অতিরিক্ত চিন্তা করা। যার ফলে আমাদের দেশের ছেলেদের মাথার চুল দ্রুত পেকে যাই। তো সর্বপ্রথম মানষিক চাপ কমান, এবং চাইলে মাঝে মাঝে মাথা ম্যাসাজ করতে পারেন। এতে চুলের গোড়ায় রক্তের চলাচল বাড়বে। চুল পাকা কমানোর জন্য রাতে দ্রুত ঘুমাবেন ও সকালে দ্রুত ঘুম থেকে উঠবেন। এছাড়াও সকাল ঘুম থেকে উঠে পুদিনা পাতার চা খেতে পারেন। 

বাজারে অনেক ধরনের চুল কালো করার জন্য ক্রিম পাওয়া যাই। এগুলা সব সময়ই এড়িয়ে চলবেন এগুলা দিলে কালো চুল গুলাও পাকা হয়ে যাই। তবে চুল যদি একেবারেই ৮০-৯০ ভাগ পেকে যাই তাহলে ভাল মানের ব্লাক শাইন করতে পারেন। আসলে চুল একেবারে পুরা পেকে গেলে তা কালো করার আর কোন সমাধান থাকে নাহ। 

বাজারে অনেক রকম হেয়ার ওয়েল কিনতে পাওয়া যাই, যার বেশির ভাগই কাজ করে নাহ। তারা শুধু নিজের ব্যবসা বাড়ানোর জন্য নানান রকমের যুক্তি দিয়ে রাখে। তবে চুল কালো করার জন্য একটি প্রাকিতিক হেয়ার প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। বাজার থেকে কালো জিরা, মেথি, ও শুকনা আমলকি কিনে আনুন। তারপর সেগুলা ব্লেন্ডারে পেস্ট করে নিন। চাইলে সাথে কিছুটা খাটি নারিকেল তেল মিশাতে পারেন। এবার রোজ দুপুরে এই হেয়ার প্যাক চুলে লাগাতে পারেন। চুল অবশ্যই কুচকুচে কালো হবে।

আপনি চাইলে মেহেদি পাতা বেটে তা চুলে দিতে পারেন। এতে করে পাকা চুল লাল হয়ে যাবে ও কালো চুল আরো কালো হবে। চুল পড়া বন্ধ করার জন্য সব সময় পরিষ্কার পানি দিয়ে চুল ধোয়া উচিৎ। কিন্তু আমাদের দেশের পানির যা অবস্থা তাতে করে পরিষ্কার পানির অভাব আমাদেরকে হাড়ে হাড়ে টের পাইয়ে দেই। তবে এক্ষেত্রে আপনি চাইলে পুকুরে গোসল করতে পারেন বা বাড়িতে পানির ট্যাংকে ফিল্টার লাগাতে পারেন। এতে করে কিছুটা হলেও উপকার পাবেন। 

 

চুল পাকা বন্ধ করার তেল

আগেই বলেছি বাজারে অনেক তেল পাওয়া যাই, যার বেশির ভাগই আহামরি কাজ করে নাহ। অনেকে আবার ঘরোয়া ভাবেও তেল তৈরি করে বাজারে বিক্রি করছে। যা কিছুটা উপকারী হলেও অনেক ব্যয়বহুল হয়ে যাই। এখন আমি কিছু জিনিস শেয়ার করবো যা আপনার চুলে নিয়মিত প্রয়োগ করলে ১০০% লাভবান হবেন।

প্রথমে একটি বাটিতে কিছুটা নারিকেল তেল নিন তার সাথে কিছু শরিষার তেল মিশ্রিত করুন এবং সাথে একটি ভিটামিন ই ওয়েল দিন। এরপর আপনার মাথায় লাগিয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়ুন ও সকাল উঠে মাথা সুন্দরভাবে ধুয়ে ফেলুন। এর সাথে আরো একটি কাজ করতে পারেন। এই তেলের ভিতরে মেথি ও কালো জিরা মিশান, সাথে চাইলে হরতুকি, আমলকি, গোলাপের পাপড়ি, জবার ফুল ইদ্যাতি মিশ্রিত করতে পারেন।

এখন কথা হচ্ছে কই পাবেন এই গুলা। আপনার এলাকার যেকোন গাছড়ার দোকানে এই গুলা পাবেন। সব এলাকায় কম বেশি গাছ গাছড়ার দোকান পাওয়া যাই। তবে আমি যা যা উল্লেখ করেছি তা এলাকা ভিত্তিক নাও পেতে পারেন। তবে এখানে যে সব গুলা দিতে হবে এমনটা মোটেও নয়।

আপনি যে কইটা উপাদান পান সেই কইটাই দিন। এই উপাদান গুলা দিনে তেলের সাথে মিশায়ে রাখেন। রাতে ঘুমানোর পূর্বে এই গুলা চুলে দিন। তারপর বাকি যে জিনিস গুলা থাকবে সেগুলা ফেলে দিবেন নাহ।

সেগুলা দিনের বেলা গোসলের পূর্বে ব্লেন্ডারে পেস্ট বানিয়ে তা মাথায় ১ ঘন্টা লাগিয়ে রাখুন। শুধু পাকা চুল কালোই হবে নাহ সাথে চুল পড়া বন্ধ হবে, চুল সিল্কি হবে, চুল ঘন ও কুচকুচে কালো হবে। যে চুল দেখলে যে কেও বলতে বাধ্য হবে যে চুলে ব্লাক শাইন করেছি কিনা। 

কালো চুল
কালো চুল

চুল পাকা বন্ধ করার খাবার

চুল পাকার অন্যতম আর একটি কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত রাস্তার খাবার খাওয়া এবং সাথে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ না করা। তবে পাকা চুল কালো করার জন্য সব ধরনের বাদাম খেতে পারেন। বাজার থেকে কাজু বাদাম, কাঠ বাদাম, ও আমাদের দেশি বাদাম ও সাথে কিছু কিচমিস একসাথে একটি জারে রেখে তা থেকে প্রতিদিন এক মুঠ করে বাদাম খেতে পারেন। এতে করে চুলে গোড়া মজবুত হবে ও পাকা চুল কালো হবে। 

মেথির কথা ইতেমধ্যে আমরা ২ বার বলে ফেলেছি। এই মেথি যেমন চুলে দেওয়া যাই তেমনি এই মেথি খাওয়াও যাই। আমাদের দেশের মানুষ আচার বানাতে পাচ ফড়ং হিসেবে মেথি ব্যবহার করে থাকে। রাতে একটি বাটিতে কিছুটা মেথি পানি দিয়ে ভিজায়ে রাখতে পারেন। সকাল উঠে ঐ পানি টা পান করে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ বার এই ভাবে খান। আর ম্যাজিক নিজের চোখেই দেখতে পারবেন।    

আমাদের দেশে অনেক তিল উৎপাদন হয়ে থাকে। বাজার থেকে কিছুটা তিল কিনে আনুন এবং তা বাদামের সাথে মিশ্রিত করে খান। তিল খেতেও যেমন মজাদার তেমনি এর উপকারও অনেক বেশি। 

গাজরের সময় হলে বাজার থেকে গাজর কিনে খেতে পারেন। গাজর যেমন চুল শক্ত করে তেমনি গাজর চেহারার লাবণ্য ফিরিয়ে আনে। আর কিছুটা স্বল্প মূল্যেই গাজর পাওয়া যাই। 

উপরের যে খাবার গুলার তালিকা দিলাম তা নিয়মিত গ্রহণ করুন, আশা করছি ১ মাসের ভিতরেই আপনি আপনার সমস্যার সমাধান করতে পারবেন নিজেই ঘরে বসে। আপাতত পাকা চুল থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে এই গুলা টিপস গুলাই দিলাম। ইনশাল্লাহ সামনে আরো নতুন কোন কিছু নিয়ে আপনাদের কাছে হাজির হবো । 

 

চুলের যত্নের সাথে ত্বকের ও যত্ন নিতে চান তাহলে এখনই পড়ুনঃ ত্বকের যত্নে মুলতানি মাটি ব্যবহারের নিয়ম। আমাদের ব্লগ পোস্ট গুলা ভাল লাগলে অবশ্যই ফেসবুকে আপনার বন্ধুদের কাছে শেয়ার করবেন। এতে করে আমরা উৎসাহিত আরো নতুন নতুন পোস্ট আপনাদের জন্য আনতে। 

Leave a Comment