পাইলস হলে কি কি খাওয়া যাবে না

পাইলস হলে কি কি খাওয়া যাবে না আর কি খেতে হবে সেটি নিয়ে হবে আজকের আর্টিকেল। পাইলস খুবই কষ্টদায়ক একটি রোগ। এই রোগ যার হয় শুধু সেই বোঝে তার কষ্ট। পাইলস কে অশ্বরোগ ও বলা হয়। এটি হলে মলদ্বারের শিরা ফুলে যাই এবং সেখানে আজ্ঞুল রাখলে বোঝা যাই যে কিছু গুটি গুটির মতো হয়েছে। মল ত্যাগের সময় এই খান থেকে রক্তপাত হয় এবং এটি থেকে ভিষণ যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়। নিয়ম কানুন না মেনে চললে ভবিষ্যতে এই রোগের জন্য অপারেশন করা লাগে। কিন্তু খারাপ কথা হলো এই যে, অপারেশন করার পরেও এই রোগ আবার ফিরে আসে। যদি খাদ্যভাস পরিবর্তন না করা হয়। তাই আজকের পোস্টে আমরা জানবো পাইলস হলে কি কি খাওয়া যাবে না। 

 

পাইলস হলে কি কি খাওয়া যাবে না

নিম্নে তুলে ধরা হলো পাইলস হলে কি কি খাবার খাওয়া যাবে নাহ তার একটু সুন্দর তালিকা। 

 

অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবারঃ পাইলস হলে অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। অতিরিক্ত লবন পাইলসের সমস্যা বহু গুনে বাড়িয়ে দেয়। তাই কাচা লবন ও অতিরিক্ত লবন খাওয়া পরিহার করতে হবে। 

 

মসলাযুক্ত খাবারঃ আমাদের এশিয়ান দেশগুলা কালচারই হলো খাবারে বিভিন্ন ধরনের মসলা মিশ্রণ করে তা খাওয়া। এতে খাবারের টেস্ট বহুগুণে বেড়ে গেলেও শরীরের জন্য তা ভিষণ হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যারা অশ্বরোগে ভুগছে তাদের অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া আর বিষ খাওয়া সমান। অতিরিক্ত মসলা খাবার গ্রহণ করার পর পরই অশ্বরোগী তার যন্ত্রনা টের পাই যখন সে বাথরুমে বসে। তাই নিজের মজ্ঞলের জন্য সকল মানুষের মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিৎ। 

 

দুধের তৈরি খাবারঃ দুধের তৈরি যেকোন ধরনের খাবার পরিহার করা পাইলসের রুগীর জন্য বাধ্যতামুলক। কারন দুধের তৈরি মিষ্টি, দই, পনির এই গুলার পাইলসের সমস্যা অনেক বাড়িয়ে তোলে। তাই এই সকল খাবার এড়িয়ে চলা ভাল নিজের ভালোর জন্য। 

 

মাংসঃ যেকোন ধরনের মাংসই এড়িয়ে চলতে হবে পাইলসের রুগীদের। বিশেষ করে লাল মাংস। এটি হজম হতে অনেক বেশি সময়। যদি কোন পাইলসের রুগী দুপুরে গরুর মাংস খাই। তাহলে সে তার ভুলের মাশুল কিছুক্ষনের ভিতরেই দিবে। তাকে বাথরুমে যেয়ে কয়েক মিনিট জীবনযুদ্ধ করা লাগতে পারে। সকল প্রকার মাংসই পাইলসের রুগীর খাওয়া ঠিক নাহ। তবে গরুর মাংস বা লাল রঙের মাংস পাইলসের রুগীর জন্য হারাম। লোভে পড়ে এটি খেয়ে নিজের বিপদ নিজে ঢেকে আনবেন নাহ। মনে রাখবেন পাইলসের সমস্যা বেশি হয়ে গেলে তা অপারেশন করা লাগতে পারে, এবং অপারেশন থেকেও রেহাই পাওয়া যাই নাহ। 

 

ফাস্ট ফুডঃ রাস্তার ভাজা মসলা ও বেকারির খাবার খাওয়া বন্ধ করূন। হোটেলের রুটি, পিজ্জা, পাস্তা, চপ, বেগুনি সব ধরনের তেল মসলা ময়দার খাবার পরিহার করুন। কেননা এই খাবার গুলা পাইলসের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। 

 

প্যাকেটজাত খাবারঃ চিপস, চানাচুর, কেক, কোমল পানি এই সকল ধরনের প্যাকেট বা কৌটা জাত খাবার পরিহার করুন। এই সকল খাবার পাইলসের সমস্যা কিছুটা হলেও বৃদ্ধি করে। তাই এই গুলা পরিহার করুন। 

 

ধুমপান ও মদ্যপানঃ আপনি যদি অশ্বরোগী হয়ে থাকেন। তাহলে আজই ধুমপানকে না বলুন। কারন সিগারেট আমাদের পেটের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। তার ফলে পাইলসের রোগি বাথরুমের সময় অনেক কষ্ট পেয়ে থাকে। সেই সাথে মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে সেটিও পরিহার করুন। তাছাড়া এই গুলা শুধু অর্থ ব্যয় করায় ও শরীরের ক্ষতি করায়। 

 

চা-কফিঃ অতিরিক্ত চা-কফি আমাদের শরীরকে কড়া করে ফেলে। তাই চা কফি যতোটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। 

 

পাইলস হলে কি কি খাওয়া যাবে

শাক-সবজিঃ পাইলসের সমস্যা থাকলে সব সময় হালকা জাতীয় খাবার গ্রহন করবেন। যে সকল খাবার সহজে হজম হয় এই ধরনের খাবার গ্রহন করুন। এতে করে বাথরুম করতে কষ্ট হবে নাহ। 

 

পানিঃ প্রতিদিন প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন। এতে করে হজম শক্তি বাড়বে। এবং বাথরুম করতে কষ্ট অনেক হবে নাহ। 

 

ঢেকি ছাটা চালঃ বাজারে কেনা চালের পরিবর্তে বাড়িতে ঢেকি ছাটা চালের ভাত খান। এবং ভাত রাইস কুকারে না রেধে তা কাঠের চুলায় হাড়িতে রান্না করুন। এই ভাত খুব দ্রুত হজম হয়। যার ফলে বাথরুম করতে কোণ কষ্ট হবে নাহ। 

 

কলাঃ প্রতিদিন ৩-৪ টা করে পাকা কলা খেতে পারেন রাতে। এতে করে সকাল ঘুম থেকে উঠে বাথরুম করার সময় কোনরূপ কষ্ট হবে নাহ। কলা আমাদের পেটের খাবার হজম করতে খুবই সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে কলা খান। 

 

উপরের আলোচনায় আমরা তুলে ধরেছি যে, পাইলস হলে কি কি খেতে হবে আর পাইলস হলে কি কি খাওয়া যাবে না। আশা করছি আপনাদের আর্টিকেলটি ভাল লেগেছে। আমাদের পূর্বের আর্টিকেল গলা ফুলে গেলে করণীয় কি!!! চাইলে পড়ে আসতে পারেন। আর আমাদের সাইটের আর্টিকেল গুলা পড়ে যদি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনাদের ফেসবুক প্রোফাইলে শেয়ার করে আমাদের উপকার করবেন। 

Leave a Comment