চুল সিল্কি করার উপায়

চুল সিল্কি করার উপায় ঘরোয়া পদ্ধতিতে। আমরা চাইলে আমাদের চুলে যত্ন বাড়িতে বসেই করতে পারি। আমাদের বাড়িতে এমন অনেক জিনিস থাকে যেগুলো আমরা চুলে দিয়ে আমাদের চুল পড়া রোধ করতে পারি, চুল সিল্কি করতে পারি, চুল ঘন কালো করতে পারি। এর মধ্যে কিছু জিনিস হচ্ছে, ডিম, পেয়াজ, মেথি, মেহিদি পাতা, নারিকেল তেল ইত্যাদি। 

 

চুল সিল্কি করার উপায় কি ?

চুল সিল্কি করার অনেক রকম উপায় আছে। নিচে আমরা তা স্টেপ বাই স্টেপ আলোচনা করবো। এতে এই মুহুর্তে আমি যে আইডিয়াটা দেবো আপনাদেরকে তা সম্পূর্ণ আমার নিজের থেকে বের করা। এবং আমি প্রতি সপ্তাহে এই ট্রিক টা ব্যবহার করি। 

প্রতিদিন গোসলে ১-২ ঘন্টা পূর্বে চুলে ভাল করে বাজাজ এলমন্ড ওয়েলটি দিয়ে রাখবেন। এই তেল দেবার পর চুল ও মাথা খুব ভালভাবে ম্যাসাজ করবেন ও সমস্থ চুলে যেন লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। চুলে তেল দেবার পর চাইলে কিছু সময় রোদে দাড়ায়ে থাকতে পারেন। যাতে মাথার স্কাল তেল টা ভালভাবে টেনে নিতে পারে। 

এরপর গোসলের সময় প্রথমে মাথায় পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন, তারপর চুলে পরিমান মতো শ্যাম্পু দিন। তারপর আবার মাথা ধুয়ে ফেলুন। তারপর গোসল শেষ করে ফেলুন ও গোসল শেষের আগে চুলে কন্ডিশনার লাগান। আপনি যেকোন ব্র্যান্ডের কন্ডিশনার দিতে পারেন। আমি সানসিল্ক দিয়ে থাকি। 

এরপর মাথা ভালভাবে ধুয়ে ফেলুন, অবশ্যই গোসলের সময় এমন পানি ব্যবহার করবেন যে পানিতে আয়রন নেই বা থাকলে খুবই কম। আমাদের দেশের আইরন পানি চুলের বারোটা বাজায়ে দেই। সব শেষে চুল হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে শুকায়ে ফেলুন। আপনি চাইলে চুল ফ্যানের বাতাসেও শুকাতে পারেন। এবার আপনি নিজেই নিজের চুল দেখেন কতোটা সিল্কি হয়ে গেছে। নিচে আমার নিজের সিল্কি চুলের একটি পিক শেয়ার করা হলো আপনাদের জন্য। 

সিল্কি চুল
সিল্কি চুল

 

অ্যালোভেরা দিয়ে চুল সিল্কি করার উপায়

অ্যালোভেরার রস বা জেল আমাদের চুলে জন্য যে কতটা উপকারী তা আপনি নিজে ব্যবহার না করা পর্যন্ত জানতে পারবেন নাহ। চুলে অ্যালোভেরা দিলে চুল অনেক সিল্কি হয় ও চুলের গোড়া মজবুত হয়। আপনি চাইলে অ্যালোভেরার সাথে লেবুর রস মিশ্রিত করতে পারেন। এতে অ্যালোভেরা গুন আরো বেড়ে যাবে। তবে এই পদ্ধতে শুধুমাত্র দুপুর বেলা করতে হবে। এইটা রাতে বা সকালে ব্যবহার করলে ঠান্ডা লেগে যাই। তাই দুপুরে মাথায় লাগায়ে ২০-৩০ মিনিট রেখে দেবার পর চুলে ভাবভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। 

 

ডিম দিয়ে চুল সিল্কি করার উপায়

যদিও ডিম চুলে দিতে কেমন যেন একটু গা ঘিন ঘিন করে তবুও আপনি যখন আমার মতো সুন্দর চুল চান তখন একটু কষ্ট করতে হবে। আর চুলের যত্ন করা যে কতটা কষ্ট এবং ব্যয়বহুল তা কেবল যারা চুল রাখে তারাই জানে। এবার চলুন পদ্ধতিটা জেনে নেওয়া যাক। প্রথমে একটি ডিম নিন, ডিম টি ভেঙ্গে তা থেকে শুধু মাত্র ডিমের কুসুম টি মাথায় লাগায়ে রাখুন। আপনি চাইলে ডিমের কুসুমের সাথে ওলিভ ওয়েল ব্যবহার করতে পারবেন। ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখার পর চুল ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে চুল যেমন সিল্কি হবে তেমন ঘনও হবে।

 

কলা দিয়ে চুল সিল্কি করার উপায় 

কলার পুষ্টিগুন নিয়ে আমরা খুব ভালভাবেই অবগত আছি। কলায় একটি মাত্র ফল যা খুব স্বল্প মূল্যে পাওয়া যাই। কলা যে শুধু খেলেই উপকার পাওয়া যাই এমনটা নয়। এই কলা দিয়ে আপনি চাইলে পেস্ট বানায়ে চুলে প্রয়োগ করতে পারবেন। প্রথমে একটি কলা নিন, সাথে কয়েক ফোটা খাটি মধু নিন, আর সাথে যদি পাকা পেপে থাকে তাহলে কয়েক টুকরা থাকে তাহলে সেটাও নিন। এবার এগুলা ব্লেন্ডারের মধ্যে নিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। এইবার এই পেস্ট টি চুলে লাগান স্ক্রাব হিসেবে। ২০ মিনিট চুলে লাগায়ে রাখলে চুল মজবুত হবে। এবং মাথার স্কালের শুষ্কতা দূর হয়। 

 

পাতি লেবু দিয়ে চুল সিল্কি করার উপায়

পাতি লেবু চুল যেমন সিল্কি করে তেমনি চুলের খুশকি থাকলে তা দূর করে। এক টেবিল চামচ লেবুর রসের সাথে এক টেবিল চামচ মধু ও খাটি নারিকেল তেল মিশ্রিত করুন। এরপর এটি চুলে ভালভাবে লাগিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি ১ ঘন্টা চুলে লাগিয়ে রাখার পর চুল শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে চুল ভালভাবে ধুয়ে ফেলুন। আর পাতি লেবুর জাদু দেখুন। 

 

টক দই দিয়ে চুল সিল্কি করার উপায়

টক দই যে শুধু রান্নার কাজে ব্যবহার হয় এমনটা নয়। যাদের চুল খুবই রুক্ষ তারা সামান্য পরিমান টক দই প্রতিদিন চুলে লাগান। টক দই হাতের আজ্ঞুলে নিন তারপর সেটি চুলে লাগিয়ে ভালভাবে ম্যাসেজ করুন। এবং চুলে ১০ মিনিট লাগিয়ে রাখার পর চুলে ধুয়ে ফেলুন। এইভাবে ১ সপ্তাহ করলে চুল আর রুক্ষ থাকবে নাহ। তো যাদের চুল রুক্ষ তারা এই পদ্ধতিটা অবলম্বন করতে পারনে। 

 

তেল দিয়ে চুল সিল্কি করার উপায়

আপনি চাইলে যেকোন তেলই চুলে দিতে পারেন। তবে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে যে তেল টা যেন খাটি হয়। আজকাল তেলের মিলেও ফ্লেভার দিয়ে নারিকেল তেল, শরিষার তেল বানানো হয়। তবে চুলের জন্য সব চেয়ে উপকারী তেল হলো খাটি নারিকেল তেল, সরিষার তেল, কালো জিরার তেল, অলিভ ওয়েল। আপনি পর্যায় ক্রমে এক এক দিন এক এক তেল ব্যবহার করতে পারেন। এবং চাইলে এই তেলের সাথে ভিটামিন ই ওয়েল দিতে পারেন। আর যাদের রাতে তেল দিলে ঠান্ডা লেগে যাই তারা দুপুরে গোসলের পূর্বে তেল দিয়ে রাখতে পারেন। প্রতিদিন চুলে তেল দিলে আর কিচ্ছু দেওয়া লাগবে নাহ। চুল ঘন হবে, চুল  পড়া বন্ধ হবে, নতুন বাচ্চা চুল গজাবে, আর চুল কুচকুচে কাল হবে যা দেখে মনে হবে যে চুল ব্লাক শাইন করা হইছে। 

 

চুল সিল্কি করার ক্রিমের নাম ?

যেকোন প্রকার ওষুধ গ্রহনের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করুন। সাধারন মানুষের সেইফটির কথা ভেবে এখানে কোন ক্রিমের নাম তুলে ধরা হলো নাহ। আপনারা দয়াকরে একজন ভাল ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করুণ। 

 

আশা করি আমার দেওয়া পদ্ধতি গুলা আপনারা বাড়িতে ব্যবহার করবেন এবং আশা করছি যে আপনি আপনার চুল অনেক সুন্দর সিল্কি করতে পারবেন। ধন্যবাদ আমাদের সাথে থাকার জন্য। ভাল লাগলে আমাদের পোস্টটি আপনার বন্ধুদের কাছে শেয়ার করবেন।

Leave a Comment