গলা ফুলে গেলে করণীয় কি!!!

গলা ফুলে গেলে করণীয় কি তা আমাদের সকলের জানা উচিত। কেননা শীতকালে হঠাৎ গলা ফুলে ওঠা খুবই সাধারন একটা বিষয়। আর গলা ফুললে ঠিক মতো কথাও বলা যাই নাহ আবার কোন কিছু খাওয়াও যাই নাহ। এমনকি এই ব্যপারে সতর্ক না হলে গলা ফুলা টনসিলের পরিনতি হয়ে দাড়াতে পারে। যা ভবিষ্যতে খুবই মারাক্তক সমস্যার সৃষ্টি করে। এই কনকনে শীতে শীত ছাড়াও গলায় ব্যথা হওয়া যেন আরো একটি বিরাট সমস্যা। স্টেপটোকক্কাস ব্যাটেরিয়ার কারণে আমাদের গলা ফুলে ও গলা ব্যথা হয়। অনেকের আবার ভাইরাসের কারনেও গলা ফুলে ওঠে। ওষুধ খেয়ে তো এই সমস্যার সমাধান করা যাই। কিন্তু আমরা শেয়ার করবো কিভাবে বাড়িতেই গলা ফুলে গেলে তা থেকে নিরাময় পাবেন। তাই আজকের আর্টিকেল আমরা জানবো এই শীতে হঠাৎ গলা ফুলে গেলে করণীয় কি। 

 

মধুঃ গলা ফুলে গেলে মধু সেবন খুবই উপকারে আসতে পারে। মধু এক কাপ গরম পানির মধ্যে মিশিয়ে তা আস্তে আস্তে সেবন করুন। মধুর মধ্যে নিউট্রিয়েন্ট থাকে যা গলার ব্যথা নিরাময় করতে ভূমিকা রাখে। এছাড়াও মধু খাওয়া অনেক উপকারী। আপনি মাঝে মাঝেই মধু সেবন করতে পারেন। এতে কোন সুগার নেই। তবে আছে অনেক অনেক উপকার। তবে অতিরিক্ত মধু সেবন করলে শরীর গরম হতে পারে। তাই মধু পরিমান মতো সেবন করুন। 

 

হলুদঃ এক কাপ গরম চায়ের মধ্যে এক টুকরা কাচা হলুদ কেটে দিন তারপর সেই চা সেবন করুন। আশা করা যাই যে এতে গলার ব্যথা কমবে। তবে হলুদ এর পরিমান টা খুবই কম হতে হবে না হলে হলুদের গন্ধে চা আর খাওয়া যাবে নাহ। 

 

তুলসিপাতাঃ ঠান্ডা কাশির জন্য তুলসিপাতার রস যে কি উপকার তা লিখে বলে শেষ করা যাবে নাহ। রাতে হঠাত করে খুব কাশি হচ্ছে। কিছু তুলসিপাতা বেটে তার রস সেবন করুন। আর ম্যাজিক সাথে সাথেই দেখতে পারবেন। এই জন্য সবার বাড়িতে তুলসি গাছ থাকা উচিত, আপনি আপনার বাড়ির আঙ্গিনায় বা সাদে আজই তুলসি কাজ রোপন করুন। গ্রাম্য মানুষের কথায় আছে তুলসি গাছের থেকে আসা বাতাসও মানুষের জন্য উপকারী। আপনার গলা ফুলে গেছে তুলসির রস সেবন করুন। আশা করছি উপকার পাবেন। 

 

ঠান্ডা খাবার পরিহারঃ আপনার যদি গলা ফুলে যাই ভুল করেও ঠান্ডা পানি ও খাবার গ্রহণ করবেন নাহ। যতো পীপাসায় লাগুক না কেনো। কিছু সময় ধর্য্য ধরে পানি গরম করে নিয়ে তারপর পানি পান করুন। গলা ফুলার পর যদি এই শীতের ঠান্ডা পানি পান করেন তাহলে ধরে নিয়েন আপনি পানি নয় বরং বিষ পান করছেন। তাই সর্বদা পানি গরম করে পান করুন, প্রয়োজনে পানি গরম করে একটি ফ্লাক্সে রেখে দিন। এতে করে বার বার পানি গরম করা থেকে পরিত্রাণ পাবেন। 

 

আরো পড়ুনঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে কি খাওয়া উচিত

 

গরম পানি ও লবণঃ একটা ইন্সট্যান্ট টোটকা দেই। আপনার ঠান্ডা লেগেছে বা গলা ফুলে গেছে। একটি গ্লাসে কুসুম গরম পানি নিন ও সাথে ১-২ চিমটি লবণ মিশ্রণ করে সেই পানি দিয়ে জোরে জোরে গড়গড়া করুন। এতে করে সাথে সাথেই আরাম ফিল করবেন। এই পদ্ধতিটা দিনে ২-৩ বার করুন। যেকোন ধরনের ব্যথায় গরম জিনিসের ছ্যাক অনেক আরাম দেয়। 

 

চা সেবনঃ গলা ফুলে গেলে বার বার হালকা লিকারে চা পান করুন। আর চায়ের সাথে চাইলে লবংগ, এলাচ, তেজপাতা মিশাতে পারেন। এতে করে অনেক আরাম পাবেন গলার ব্যথ্যয়। 

 

ঠাণ্ডা পরিবেশ পরিহারঃ গলা ফুলে গেলে গলায় সব সময় গরম কিছু জড়ায়ে রাখুন। মাফলার বা টুপি বা চাইলে স্টাইলিশ ব্যান্ড গুলাও দিতে পারেন। গলা ফুলে গেলে মাথায় রাখবেন যে এখন আপনার শো অফ দরকার নাই। আপনি অসুস্থ আর আপনাকে এই অসুস্থতা থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে। তাই লোকে কি বলবে সেটা না ভেবে সব সময় গলা,মুখ ও বুক ঢেকে রাকুন। এতে করে দ্রুত সুস্থ হতে পারবেন। 

 

বাইক রাইডঃ আপনার কাছে যতো সেইফটিই থাকুক না কেন। গলা ফুলে গেলে বাইক চালানো পরিহার করুন। দরকার পড়লে হাটুন বা রিকশা বা বাস ব্যবহার করুন। বাইক চালালে যে পরিমানে ঠান্ডা বাতাস আপনার গায়ে লাগবে রিকশাতে সেই পরিমান ঠান্ডা আপনার গায়ে লাগবে নাহ। তাই গলা ফুলে উঠলে কষ্ট হলেও কিছু দিনের জন্য বাইক রাইড করা পরিহার করুন। 

 

উপরোক্ত বিষয় গুলা সম্পুর্ণ ঘরোয়া উপায় গলা ফুলে গেলে করনীয়তার। এই সকল বিষয় অনূসরূন করেও যদি আপনার গলা ফুলার সমস্যা দূর না হয় তাহলে অতি শিঘ্রই ডাক্তার দেখান। অবহেলা করলে এই গলা ফুলা থেকে টনসিল এবং সেখান থেকে ক্যান্সার হয়ে মূত্য হতে পারে। তাই গলা ব্যথা যদি ১-২ দিনের বেশি থাকে তাহলে নিজে নিজে উস্তাদি না করে সরাসরি ডাক্তারের কাছে জান। এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন। আশা করছি আপনাদের গলা ফুলে গেলে করণীয় কি!!! এই আর্টিকেল টা আপনাদের সকলের ভাল লেগেছে। যদি উপকারে আসে তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের কাছে তা শেয়ার দিবেন।  

Leave a Comment