গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া উচিত

গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া উচিত। একজন মেয়ের তার সারা জীবনের সেরা ও সুন্দর সময় হচ্ছে তার গর্ভধারনের সময়। এই সময় তার সকল কাছের মানুষ তার সাথে অত্যধিক ভাল ব্যবহার শুরু করে, যেটা একজন নারীর জীবনে অনেক বড় প্রাপ্য। একজন নারী এই সময় তার নিজের শরীরের প্রতি প্রচুর সতর্ক হওয়া উচিৎ। প্রতিটা খাবার গ্রহণ ভেবে-চিন্তে করা উচিত। আমরা আজকে তুলে ধরবো কিছু পুষ্টিকর খাবার যা প্রতিটা গর্ভবতী মায়ের খাওয়া উচিৎ। 

 

গর্ভাবস্থায় খেজুর খাওয়ার উপকারিতা

খেজুর খুবই পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি ফল। এর ভিতরে রয়েছেঃ ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, লৌহ, ভিটামিন বি সিক্স ও ভিটামিন কে। একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য এই গুণ গুলা খুবই প্রয়োজনীয়। তাই সকল গর্ভবতী মায়ের উচিৎ গর্ভধারনের সময়কালে বেশি বেশি নিয়মিত খেজুর খাওয়া। এতে করে মায়ের শরীরের দুর্বলভাব দূর হয়। 

 

গর্ভাবস্থায় দুধ খাওয়ার উপকারিতা

দুধ একটি পুষ্টিকর সুষম খাবার। আর এক জন গর্ভবতী মায়ের জন্য দুধ খাওয়া যে কতটা প্রয়োজন তা বলে বোঝানো যাবে নাহ। দুধে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম, যা মা ও শিশুর জন্য খুবর দরকারী ও প্রয়োজনীয়। গর্ভাবস্থায় মা যদি বেশি বেশি দুধ পান করে তাহলে ভবিষ্যতে বাচ্চার ডায়াবেটিস হবার সম্ভবনা অনেক কম থাকে। যদিও দুধের মধ্যে আয়রন থাকে খুবই কম, তারপরো যতোটুকু থাকে তা শিশুর ব্রেন বিকাশে অনেক সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও গর্ভবতী মা দুধ পান করলে মা ও শিশু সেখান থেকে ভিটামিন ডি পেতে থাকে, যা খুবই প্রয়োজনীয় মা ও শিশুর জন্য।

 

গর্ভাবস্থায় পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় পেয়ারা খাওয়া অনেক উপকার স্বাস্থ্যের জন্য। পেয়ারাতে আছে ভিটামিন সি, যেটা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। পেয়ারা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থাকে। এবং পেয়ারা বিশেষ করে সেই সকল মেয়েদের খাওয়া অবশ্যই উচিত, যারা অল্প বয়সে প্রেগনেন্ট হয়। এতে করে ডেলিভারির সময় ঝুকি অনেক অংশে কমে যায়। এছাড়াও পেয়ারা কষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। 

 

গর্ভাবস্থায় কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা

কিশমিশে প্রচুর পরিমানে ফাইবার, আয়রণ, পটাশিয়াম থাকে। যা যেকোন মানুষের শরীরের জন্য উপকারী। পরিমাণ মতো কিসমিস খেলে দেহে কোথাও ক্ষত হলে তা দ্রুত রিকোভার করে ফেলে। তবে গর্ভাবস্থায় মোটেও অতিরিক্ত কিসমিস খাওয়া ঠিক নাহ, এতে করে শরীরের ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। গর্ভবতী মেয়ে চাইলে আঙ্গুরফল ও খেতে পারে। 

 

গর্ভাবস্থায় বাদাম খাওয়ার উপকারিতা

কাঠ বাদাম, চিনা বাদাম, দেশি বাদাম সহ যেকোন প্রকার বাদামই আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী বিশেষত গর্ভবতী মায়েদের জন্য। প্রতিদিন ২-৪ টা বাদাম খেলে গর্ভের শিশুর হাড় মজবুত হয়, দাত শক্ত হয়, হাড় প্রয়োজন মতো ক্যালসিয়াম পাই, শিশুর ওজন বাড়াতে বাদামের ভিতর থাকা ম্যগ্নেসিয়াম অনেক উপকার করে। বাদামের মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ও মিনারেল যা রক্তের চাপ নিয়ন্ত্রণ করে। গর্ভধারণ করার পর যাদের মাছ-মাংসতে অরুচি আসে তারা মাছ-মাংসের পরীবর্তে নিয়মিত পরিমান মতো বাদাম খেতে পারে। 

 

গর্ভাবস্থায় ডিম খাওয়ার উপকারিতা

ডিম একমাত্র আমিষ খাবার যা আমাদের দেশে অনেক অল্প টাকাতে পাওয়া যাই। যদিও বর্তমানে ডিমের দাম বাড়তেই চলেছে। তবে এই ডিমের মধ্যে রয়েছে অনেক অনেক পুষ্টিগুণ। ডিম অনেক রকম উপায়ে খাওয়া যাই, তবে মুরগির ডিম হলে সবচেয়ে বেশি উপকার হয় তা যদি সিদ্ধ করে খাওয়া হয়। ডিম বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থ ও প্রচুর ভিটামিন ও ফ্যাটে সমরিদ্ধ। একজন গর্ভবতী মায়ের প্রতিকাল সকালে ১ টি ও বিকালে ১ টি করে ডিম খাওয়া উচিৎ। তবে সিদ্ধ ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে হাফ বয়েল ডিম না খেয়ে ফুল বয়েল ডিম খাওয়াই শ্রেয়। 

 

তো আজকে আমরা জেনেই অনেক গুলা খাবারের তালিকা যা প্রতিটি গর্ভবর্তী মায়ের খাওয়া উচিৎ বলে ডাক্তারেরা মনে করে। আমাদের পোস্ট ভাল লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করবেন প্লিজ। আপনি চাইলে আমাদের অন্য আর্টিকেল পড়তে পারেনঃ চুল পড়া বন্ধ ও ঘন করার উপায়। 

Leave a Comment