ক্যালসিয়াম বৃদ্ধির উপায়

ক্যালসিয়াম বৃদ্ধির উপায় আমাদের সবারই জানার উচিৎ। কারণ ক্যালসিয়াম আমাদের দেহ থেকে উৎপাদন হয় নাহ। ক্যালসিয়ামের অভাবে অনেকে হাটুর ব্যথা বা কোমরে ব্যথা ফিল করেন। এই সময় বয়স্করা ওষুধ সেবন করে ও তরুণ চাইলে একটু ভাল খাবার খেয়ে তা রিকোভার করে ফেলে। আজকে আমরা জানব ক্যালসিয়াম বৃদ্ধির উপায় গুলা। কোন খাবার গুলা খেলে ক্যালসিয়াম বৃদ্ধি পাবে। যেহুতু আমাদের শরীর ক্যালসিয়াম তৈরি করতে পারে নাহ। তাই আমারা চাইলে দুধ ও কলা থেকে ক্যালসিয়াম পেতে পারি। কলা খুবই সহজলভ্য একটি খাবার আমাদের দেশে। এছাড়াও মাছের কাটা, বাদাম, সিমে, দই ইত্যাদি খাবারে ক্যালসিয়াম পাওয়া যাই। শাক-সবজিও কিন্তু ভাল ক্যালসিয়ামের উৎস হতে পারে। ক্যালসিয়াম আমাদের শরীরের হাড়কে মজবুত করে। 

 

ক্যালসিয়াম এর অভাব জনিত লক্ষণ

 

  • ক্যালসিয়ামের অভাবে শরীরের বিভিন্ন হাড়ে ব্যথা, পেসি টান হওয়া, অলসতা ইদ্যাতি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে গেলে সরাসরি ডাক্তারের সরাপর্ন হন। 
  • ক্যালসিয়েমার অভাবে শরীর দূর্বল লাগতে পারে। ঘুম ঠিক মতো নাও আসতে পারে। মাঝে মাঝে মাথা ব্যথা হতে পারে। 
  • এছাড়াও ক্যালসিয়ামের অভাবে ত্বক রুক্ষ হতে পারে, নখ অল্প আঘাতেই ভেংগে যেতে পারে। ত্বক মাঝে মাঝে চুলকাতে পারে। 
  • শরীরে ক্যালসিয়ামের পরিমান অনেক কমে গেলে তখন হাড় আর মজবুত থাকে নাহ, অল্প কোন কিছুর আঘাতেই ভেঙ্গে যাই। তাই এমতাবস্থায় পড়ার আগেই ডাক্তারের শরানাপর্ন হওয়া উচিৎ। 
  • ক্যালসিয়ামের অভাবে খিচুনি হতে পারে। 
  • ক্যালসিয়ামের অভাবে মেজাজ খিটখিটে হতে পারে। 

 

আরো পড়ুনঃ হলদেটে দাঁত সাদা করার উপায়

 

কি খেলে ক্যালসিয়াম বাড়ে

যদিও আমরা উপরে আলোচনা করেছি ক্যালসিয়াম বৃদ্ধির উপায় সমূহ নিয়ে। তারপরো এখানে আরো একবার পয়েন্ট আকারে সুন্দর ভাবে তুলে ধরছি আপনাদের জন্য। যাতে করে আপনারা আরো সহজে ভালভাবে বুঝতে পারেন। 

 

দুধ

দুধ একটি সুষম খাবার আর এই দুধ থেকে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম পাবেন। দুধের দাম কিছুটা বেড়ে গেলেও তা এখন কেনার আয়ত্তে আছে। তাই প্রতিদিন সকাল দুধ খাওয়ার চেষ্টা করুন। 

 

কলা 

কলায় প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম থাকে। আর ম্যাগনেসিয়াম আমাদের দাত ও হাড় গঠনে সাহায্য করে থাকে। প্রতিদিন রাতে ও সকালে একটি করে কলা খেতে পারেন। হোক সেটা সাগর  কলা বা সবরে কলা। যেকোন কলা খেলেই আপনি আপনি আমার দেহের ক্যালসিয়াম এর অভাব দূর করতে পারবেন। 

 

কমলা

কমলা লেবুতে ভিটামিন-সি ও ভিটামিন-ডি আছে। তাই প্রতিদিন ১-২ করে কমলা লেবু খেতে পারেন। বিশেষ করে যারা ক্যালসিয়ামে ভুগছেন তারা চাইলে কমলা লেবু প্রতিদিন খেতে পারেন। 

 

বাদাম

বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড় মজবুত রাখতে মাঝে মাঝেই বাদাম খাওয়া উচিৎ। যেকোন বাদাম খেতে পারেন। কাঠ বাদাম, কাজু বাদাম বা আমাদের দেশি বাদাম সেগুলা এক সাথে মিশ্রিত করে প্রতিদন কয়েক মুঠ করে খেতে পারেন। বাদামে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে। যা হাড় মজবুত করে  ও গিরার ব্যথা দূরে রাখে। 

 

ভিটামিন-ডি

যখন ক্যালসিয়ামের অনেক ঘাটতি, তখন ডাক্তারের কাছ থেকে ভিটামিন-ডি সংগ্রহ করে তা খেতে পারেন। এছাড়াও আপনি চাইলে সকাল বেলা সূর্যের আলোতে বসে থাকতে পারেন। এতে অনেক পরিমানে ভিটামিন-ডি থাকে। আসলে সূর্যের আলোয় একমাত্র প্রধান সোর্স ভিটামিন-ডি সংগ্রহ করার জন্য। 

 

পালক শাক

একবার একটা গল্প শুনেছিলাম আমার স্যারের কাছ থেকে। যে তার রাত খানা রোগ হয়েছিল ভিটামিন-ডি এর অভাবে। তাই তিনি তিনি ৩-৪ বেলা পালক শাক খাইতো। এই পালক শাকের সুপ, পালক শাকের তরকারি, পালক শাকের ঘন্টো। তাও নাকি সাথে লবন ছাড়া কিছুই মিশাতো নাহ। এবং এইভাবেই তিনি রাত কানা রোগ থেকে মুক্তি পাই। পালং শাকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন-ডি থাকে। এই শাকটি আমাদের সবারই খাওয়া উচিৎ সপ্তাহে ২-১ করে হলেও। তাই আপনার দেহের ক্যালসিয়াম বৃদ্ধির উপায় হিসেবে প্রতিদিন পালন শাক খান। 

 

আমাদের এই টিপস গুলা তাদেরই কাজে লাগবে যারা কেবল সবে মাত্র ক্যালসিয়াম এ ভুগছেন। যারা গুরুতরো ভাবে ক্যালসিয়ামের অভাবে রয়েছেন, তাদের উচিৎ এখনই ডাক্তার দেখানো। সিরিয়াস কোন সমস্যায় এই সব ব্লগ পোস্ট না পড়ে সরাসরি ডাক্তারের কাছে গেলেই সাহায্য পাবেন। আর আপনার যদি খুব সামান্য ক্যালসিয়ামের অভাব থেকে থাকে। তাহলে আমাদের দেখানো ক্যালসিয়াম বৃদ্ধির উপায় গুলা ফলো করুন। আশা করছি ১ মাসের ভিতরেই নিজের শরীরের পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন। আমাদের আর্টিকেল গুলা ভাল লাগলে তা আপনার বন্ধু ও আত্বীয় স্বজনদের কাছে শেয়ার করবেন। যারার ক্যালসিয়াম বৃদ্ধির উপায় গুলা খুজছে। ধন্যবাদ। 

Leave a Comment