কোন ভিটামিনের অভাবে ঠান্ডা লাগে

কোন ভিটামিনের অভাবে ঠান্ডা লাগে তা আমরা অনেকেই জানি নাহ, আবহাওয়া পরিবর্তন ,ঋতু পরিবর্তন এসব কারণে ঠান্ডা লাগাটা স্বাভাবিক। কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছে যাদের আবহাওয়া পরিবর্তন কিংবা ঋতু পরিবর্তন ছাড়াও তাদের কাছে শীত লাগে। কিছু লোক কোনো কারণ ছাড়াই অন্যদের তুলনায় ঠান্ডা অনুভব করতে পারে। যাইহোক, সর্বদা ঠাণ্ডা অনুভব করা একটি অন্তর্নিহিত চিকিৎসা অবস্থার ইঙ্গিত দিতে পারে, যেমন হাইপোথাইরয়েডিজম, রক্তস্বল্পতা বা দুর্বল সঞ্চালন । ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় ঠাণ্ডা অনুভব করা স্বাভাবিক, তবে আপনি যদি সবসময় ঠান্ডা অনুভব করেন তবে এর একটি অন্তর্নিহিত কারণ থাকতে পারে। তবে এই ঠান্ডা ভিটামিনের অভাবে হয়ে থাকে। এটি মূলত একটি শারীরিক সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। শরীরে একটি ভিটামিনের অভাব হলে এই সমস্যাটি হয়ে থাকে। এমন একটি ভিটামিন আছে যে ভিটামিনটি শরীরে পর্যাপ্ত পরিমানে না থাকলে শরীর কোনও জীবাণুর আক্রমণ ঠেকাতে পারে না। ফলে শরীরে সহজে ঠান্ডা লাগে। 

 

কোন ভিটামিনের অভাবে ঠান্ডা লাগে?

শরীরে ভিটামিনের অভাবে যে ঠান্ডা লাগে এটি অনেকেরই এখনো অজানা। আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় হঠাৎ হঠাৎ ঠান্ডা লাগলে সতর্ক হোন। মূলত ভিটামিন সি এর অভাবে ঠান্ডা লাগে। শরীরে ভিটামিন সি এর ঘাটতি থাকলে শরীরে শীত অনুভূত হয়। ভিটামিন সি-র অভাবে শরীরে লিম্ফোসাইট বা শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি হতে পারে না। তাই শরীর কোনও জীবাণুর আক্রমণ ঠেকাতে পারে না। সহজে ঠান্ডা লাগেও এই কারণেই।

 

অতিরিক্ত ভিটামিন সি খেলে কি ঠান্ডা লাগে?

ভিটামিন সি জ্বর সর্দি কাশি প্রতিরোধ করে না তাদের দৈর্ঘ্য এবং তীব্রতা কিছুটা কমিয়ে দেয় । নিয়মিত ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেলে ঠান্ডা লাগাটা একটু উন্নতি হতে পারে। 2013 সালের বৈজ্ঞানিক সাহিত্যের একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণ করলে সর্দি হওয়ার সম্ভাবনা কম হয় না তবে ঠান্ডা লক্ষণগুলির ছোট উন্নতির সাথে যুক্ত ছিল।

 

ভিটামিন সি কি ফ্লুতে সাহায্য করে?

ভিটামিন সি গ্রহণ করা আপনাকে ফ্লু বা সর্দি-কাশি থেকে বা কোভিড-১৯ পেতে বাধা দেবে না । আপনি যদি নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণ করেন এবং সর্দি বা ফ্লুতে আক্রান্ত হন তবে আপনার লক্ষণগুলি এতটা খারাপ নাও হতে পারে। তবে ভিটামিন সি ঠান্ডা ছাড়া অন্য তেমন কোনো সমস্যায় সাহায্য নাও করতে পারে। আপনি যদি ইতিমধ্যেই সর্দি বা ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে ভিটামিন সি গ্রহণ করেন, তাহলে আপনি কতক্ষণ অসুস্থ বা আপনি কতটা অসুস্থ তা প্রভাবিত করবে না।

 

আরো পড়ুনঃ রক্ত কমে গেলে কি খাওয়া উচিত

 

কোন খাবার খেলে শরীরে ভিটামিন সি এর ঘাটতি পূরণ হয় ?

 এখন লেবু ছাড়া এমন ৫ টি খাবারের কথা বলবো যেগুলোতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকে। 

 

  • পেয়ারা 

 

পেয়ারা বাঙালির ‘একান্ত আপন’ ফল। শহরতলির দিকে এখনও প্রতি পাড়ার একাধিক বাড়িতে পেয়ারা গাছ দেখা যায়। আর জানলে অবাক হয়ে যাবেন, এই পেয়ারাতেই রয়েছে ভিটামিন সি-এর ভাণ্ডার। আর তাই পেয়ারা খেলে শরীরে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি এর ঘাটতি পূরণ হয়। মেডিক্যাল নিউজ টুডে জানাচ্ছে, ১ কাপ পেয়ারায় থাকে প্রায় ৩৭৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। এছাড়াও পেয়ারায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভাণ্ডার। তাই ইমিউনিটি বাড়িয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে পেয়ারা আপনার প্রথম পছন্দ হতেই পারে।

 

  • টমেটো জুস 

 

টমেটোর জুস অনেকের মুখেই রোচে না। তবে জানলে অবাক হয়ে যাবেন, এই পানীয় খেলে অনেক উপকার মেলে। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ১ কাপ টমেটোর জুসে আছে প্রায় ১২৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি আছে। এ টমেটোর জুস গেলে শরীরে অনেক ভিটামিন সি উৎপর্ন হয়। এছাড়াও টমেটো হল বিটা ক্যারোটিনের ভাণ্ডার। আর এই বিটা ক্যারোটিন শরীরে প্রবেশ করার পর ভিটামিন এ-তে পরিণত হয়। তাই ইমিউনিটি বৃদ্ধি করতে চাইলে নিয়মিত টমেটো জুস পান করা চাই। আশা করছি ফল পাবেন হাতেনাতে।

 

  •  পেঁপে 

 

পেঁপে হচ্চে বারমাসি ফল। বাঙালির রান্নাঘরে সবসময়ই পেঁপে মজুত থাকে। আর পেঁপে হল ভিটামিন সি-এর খনি। তবে ভিটামিন সি পেতে গেলে এই ফল রান্না করে খাওয়া যাবে না। বরং পাকা পেঁপে খেতে হবে।  তাই শরীরে ভিটামিন সি এর ঘাটতি পূরণ করে পেঁপে খান। একটা ছোট আকারের পেঁপেতে থাকে প্রায় ৯৫.৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। এছাড়াও এতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা অন্ত্রের খেয়াল রাখে। তাই নিয়মিত পেঁপে খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

 

  • ব্রকোলি

 

​ব্রকোলি নিয়ে সারা পৃথিবীতে হইচই পড়ে গিয়েছে। এই সবজির গুণ নিয়ে একাধিক গবেষণাও সামনে এসেছে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, ভিটামিন সি-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাণ্ডার হল ব্রকোলি। ১ কাপ ব্রকোলিতে রয়েছে প্রায় ৮১.২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। ব্রকোলি শরীরের ভিটামিন সি এর বিরাট ঘাটতি পূরণ করে। এছাড়া এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। সেই সঙ্গে এতে রয়েছে উপকারী ফাইবার যা ওজন কমাতে সহায়ক। তাই লাঞ্চে বা ডিনারে স্যালাড হিসাবে ব্রকোলি খেতে পারেন।

 

  • আম 

বাংলাদেশের মানুষের অন্যতম প্রিয় ফল আম। ল্যাংড়া, গোলাপখাস, হিমসাগরে মজে থাকে বাঙালি… এই রসাল ফল মুখে তুললেই ‘দিল খুশ’। তবে জানলে অবাক হয়ে যাবেন যে স্বাদে অনন্য হওয়ার পাশাপাশি এই ফল পুষ্টিগুণে ভরপুর। ১ কাপ আমে রয়েছে প্রায় ৬০.১ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। তাই শরীরে ভিটামিন সি এর অভাব পূরণ করতে বেশি পরিমানে আম খান। 

 

অসুস্থ হলে কতটুকু ভিটামিন সি খাওয়া উচিত?

ভিটামিন সি খাবার হলেও সে খাবারগুলো লিমিট অনুযায়ী খেতে হবে। বেশি খেলে পেট খারাপ হতে পারে। অসুস্থ অবস্থা হলেও ভিটামিন সি জাতীয় খাবার কম পরিমানে খেতে হবে। তাই শরীরে ভিটামিন সি এর অভাব পূরণ করতে প্রতিদিন ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খাওয়া উচিৎ। তবে অসুস্থ অবস্থায় এই ভিটামিন সি কম খাওয়া উচিৎ। আবার কিছু কিছু রোগের ক্ষেত্রে ভিটামিন সি না খাওয়া উচিৎ। কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ভিটামিন সি সম্পূরক গ্রহণ করা উচিত নয়। গর্ভাবস্থায় ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্টের বড় ডোজ সুপারিশ করা হয় না।

 

ভিটামিন সি এর অভাব হলে শরীরে কি কি লক্ষণ দেখা যায় ?

ভিটামিন সি-র অভাব হলে শরীরে থাইরয়েড হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যেতে পারে। হঠাৎ হাইপারথাইরয়েডিজমের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, খিদে চলে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।শরীরে ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। কায়িক পরিশ্রম না করেও হঠাৎ যদি খুব ক্লান্ত লাগে। থাইরয়েডের সমস্যা ভিটামিন সি-র অভাব হলে শরীরে থাইরয়েড হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যেতে পারে। ত্বকের রোগ ,ভিটামিন সি–র অভাবে ত্বকের নানা রোগ হতে পারে। ত্বক জ্বালা করে, চুলকানি সহ নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাড়ি থেকে রক্ত পড়া,, শরীরে এই ভিটামিন সি এর অভাবে মাড়ি থেকে রক্ত পড়া এবং মাড়ির রোগ হতে পারে।  ভিটামিন সি এর অভাবের আরেকটি লক্ষণ হলো রক্তাল্পতা।শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে আয়রন শোষণের হার কমে যায় ফলে রক্তাল্পতার মতো রোগ হতে পারে। এই গুলো দেখলে আপনি বুজতে পারবেন আপনার শরীরে ভিটামিন সি এর অভাব আছে সেটি বুজতে পারা যায়। 

Leave a Comment